shasthokothaxyz@gmail.com

+8801953906973

শিশুদের নিউমোনিয়া থেকে প্রতিকার

শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকায় ঋতুর পরিবর্তনের সাথে সাথে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। শিশুরা শীতে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে নিউমোনিয়ায়। তবে বছরের যেকোনো সময়ও হতে পারে।

fgggg Md Ashiqur Rahman ভিউ: 248

Logo

পোস্ট আপডেট 2021-01-18 14:10:30   10 months ago

মানব দেহের একটি অত্যাবশকীয় অঙ্গ হচ্ছে ফুসফুস। আমরা বেঁচে থাকার জন্য প্রতিনিয়ত শ্বাস প্রশ্বাস নিচ্ছি এই ফুসফুসের সাহায্যে। আর ফুসফুসে যখন প্রদাহের সৃষ্টি হয় তখন তাকে বলা হয় নিউমোনিয়া। নিউমোনিয়া প্রধানত: শিশুদের একটি শ্বাসকষ্ট জনিত রোগ। এটি একটি মারাত্মক ব্যাধি। যে শ্বাসতন্ত্রের দ্বারা শ্বাস প্রশ্বাস কার্য পরিচালিত হয় তা প্রধানত: নাক থেকে ফুসফুস পর্যন্ত পরিব্যপ্ত। শ্বাসমন্ত্রের ইনফেকশনকে বলা হয় এ্যাকুডট রেসপারেটরী ইনপেকশন বা এ.আর.আই। শ্বাসতন্ত্রে যদি ইনফেকশন হয় তবে আতঙ্কিত হবার কোন কারণ নেই। কারণ শ্বাসতন্ত্রের ইনফেকশন নিউমোনিয়া নয়। নিউমোনিয়ার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ফুসফুসে প্রদাহ হয়ে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হয়।
নিউমোনিয়ার উপসর্গসমূহ
১. দুই মাসের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে- সর্দি এবং কাশির সাথে প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট। এ বয়সী শিশুরা যদি মিনিটে ৬০ বা তার চেয়ে বেশি বার শ্বাস নেয় তবে বুঝতে হবে শিশুটি জটিল নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। যা কিনা শিশুটির জন্য খুবই মারাত্মক। বুকের ভিতর বাঁশির মত সাঁই সাঁই আওয়াজ হওয়া।
গলার স্বরের পরিবর্তন হওয়া
ঘুমের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়া
খাদ্যে অনিহা
শরীর ম্যাজম্যাজ করা, কখনও খিঁচুনি হওয়া
মাঝে মাঝে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া, আবার কখনও তামপাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যাওয়া
দ্রুত শ্বাস নেবার সময় বুকের নীচের অংশ ভিতরে বসে যাওয়া
২. দুই মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে
সর্দি কাশির প্রকোপতা বৃদ্ধি পাওয়া
শ্বাস কষ্টের পরিমাণ দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া অর্থাত্ ২ মাস থেকে ১ বছর বয়সী শিশুরা প্রতি মিনিটে ৫০ বা তার বেশি বার এবং ১ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুরা প্রতি মিনিটে ৪০ বা তার বেশি বার শ্বাস নিতে থাকলে
খিঁচুনির সৃষ্টি হওয়া
গলার স্বর পরিবর্তন হওয়া
অস্বাভাবিক ঘুমের প্রবণতা
খাবারে অনিহা এবং পানি পর্যন্ত না খাওয়া
অপুষ্টি জনিত সমস্যায় ভোগা
নিউমোনিয়ার প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা
শিশুদের শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহ বা ইনফেকশন যদিও নিউমোনিয়া নয়, তবুও এ ব্যাপারে বাচ্চার পিতা মাতাকে সচেতন থাকতে হবে। এ.আর.আইটি হলে শিশুকে উজ্ঞ রাখতে হবে, নাক সবসময় পরিষ্কার রাখতে হবে, বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করা যাবে না। আদার রস, মধু, তুলসী পাতা, লেবুর রস ইত্যাদি খাওয়াতে হবে। আর শিশুর অবস্থা যদি জটিল হয় তাহলে শিশুকে ডাক্তারের নিকট নিয়ে যেতে হবে। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে বক্ষব্যাধি চিকিত্সকগণ সাধারণত: এন্টিবায়োটিক সেবনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কিন্তু কোন শিশু যদি মারাত্মক নিউমোনিয়া অর্থা’ শিশুর শ্বাস নেবার ও ছাড়ার সময় বুকের বা পাজরের নীচের অংশ ভিতরের দিকে বসে যায়, সেক্ষেত্রে চিকিত্সকগণ রোগীকে এন্টিবায়োটক ইনজেকশন প্রয়োগ করে থাকেন। এ পরিস্থিতে চিকিত্সকগণ এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করেন যাতে রোগীকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা যায়। নিউমোনিয়া শিশুদের একটি জটিল রোগ। এই রোগটি প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ করাই উত্তম। একটু সতর্ক থাকলেই এই রোগটি খুব সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। দুই মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের মা-বাবাকে যে সব বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে-
শিশুকে সুস্থ আলো বাতাসপূর্ণ পরিবেশে রাখতে হবে। স্যাঁতস্যাঁতে কিংবা ধোঁয়ামুক্ত পরিবেশ থেকে শিশুকে দূরে রাখতে হবে
শিশুকে সব সময় মায়ের সান্নিধ্যে রাখতে পারলে ভালো হবে
বাচ্চার শরীর যাতে খুব বেশি ঠান্ডা না হয়ে যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে
যে সকল শিশু মায়ের বুকের দুধ খায় সেসব শিশুর সাধারণত নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হবার ঝুঁকি কম থাকে। সেই শিশুকে নিয়মিত বুকের দুধ পান করাতে হবে
ছয় মাসের পর বুকের দুধের পাশাপাশি অন্য খাবার খাওয়াতে হবে
হামের টিকা সঠিক দিতে হবে
 
নিউমোনিয়া সম্পূর্ণ নিরাময় যোগ্য রোগ। সঠিক সময়ে চিকিত্সকের শরনাপন্ন হলে এবং চিকিত্সকের পরামর্শ অনুযায়ী শিশুকে সেবাদান ও ওষুধ সেবন করালে শিশুর পক্ষে সুস্থ ও সুন্দর জীবন যাপন করা সম্ভব হবে।



কমেন্ট


সাম্প্রতিক মন্তব্য


Logo

Sony Akter 10 months ago

ধন্যবাদ

Logo

Upma tewari 10 months ago

Tnx