shasthokothaxyz@gmail.com

+8801953906973

হৃদরোগের লক্ষণ ও চিকিৎসা

শরীরের প্রতিটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গের মধ্যে হৃদয় একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এর ক্রিয়া বন্ধ হয়ে গেলে সবই শেষ। হৃদয় হলো শরীরের মূলধন। তাই জানতে হবে হৃদয় কিভাবে কাজ করে, বুঝতে হবে হৃদরোগের লক্ষ্যণসমূহ এবং অনুসরণ করতে হবে হৃদয় ভালো রাখার পদ্ধতি।

fgggg Md Ashiqur Rahman ভিউ: 224

Logo

পোস্ট আপডেট 2021-02-14 13:02:06   9 months ago

হৃদয় যেভাবে কাজ করে

হৃদপিন্ড বুকের মাঝখান থেকে বাঁ দিকের বুকের অনেকখানি জুড়ে অবস্থিত। এর ভেতরে চারটি ঘর রয়েছে। বাঁ দিকের উপরের অংশ ছোট পাতলা দেয়ালের একটি ঘর। একে বাম অলিন্দ বলা হয়। তার ঠিক নিচে বাম দিকে হৃদপিন্ডের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং মাংসল যে ঘরটি অবস্থিত তাকে বলা হয় বাম নিলয়। বাম অলিন্দে ফুসফুস থেকে চারটি শিরার মাধ্যমে অক্সিজেন দিয়ে শোষিত রক্ত এসে প্রবেশ করে। বাম অলিন্দ থেকে বাম নিলয়ে যাওয়ার জন্য শক্ত দুটি পাল্লা সম্বলিত একটি ভাল্ব আছে। এই পাল্লা দুটি খুলে গেলে বাম অলিন্দ থেকে এই রক্ত বাম নিলয়ে ঢুকে যায়।

বাম নিলয়ে থেকে বিশুদ্ধ রক্ত বের হওয়ার জন্য মহাধমনীর মুখটি বাম নিলয়ে থেকে উঠে এসেছে। এই মহাধমনী এবং বাম নিলয় সংযোগস্থলে তিন পাল্লা বিশিষ্ট একটি ভাল্ব আছে। এই পাল্লাগুলো যখন খুলে যায় (আল্লাহ তায়ালার এত সুন্দর ব্যবস্থা) একই সময়ে দুই পাল্লাওয়ালা অন্য কপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং বাম নিলয় এ সময় খুব জোরে সংকুচিত হয়, যার ফলে বিশুদ্ধ রক্ত মহাধমনী এবং তার অসংখ্য শাখা-প্রশাখার মাধ্যমে সারা দেহে ছড়িয়ে পরে। এই বিশুদ্ধ রক্তের মাধ্যমে শরীরের সমস্ত টিস্যু অক্সিজেন, অন্যান্য পুষ্টি, ইলেকট্রোলাইট ইত্যাদি গ্রহণ করবে।

হৃদরোগের লক্ষণসমূহ

হৃদরোগে বুক ব্যথা সাধারণত বুকের মাঝখানে হয়ে থাকে। কখনও বুকের বামপাশে অনেকখানি জায়গা জুড়েও তা হতে পারে। এই ব্যথা মৃদু থকে তীব্র, বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। সাধারণত একটা তীব্র চাপ এই ব্যথার বৈশিষ্ট্য। অনেকের ব্যথা শুধু বুকের মধ্যখানে অথবা বুকে হৃদপিন্ডের উপর সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। যদিও এই ব্যথা ছড়িয়ে পড়তে পারে সারা বুকে, বাম কাঁধে, বাম বাহুতে, বাম হাতে, বাম কড়ে আঙ্গুলে।

কখনও কখনও ডান কাঁধেও এ ব্যথা আসতে পারে। আবার এই ব্যথা গলা দিয়ে চোয়াল পর্যন্তও চলে আসে। কেউ কেউ এ ব্যথা উপরের পেটেও অনুভব করেন। এনজাইমা হলে সাধারণত পরিশ্রমের পর রোগী এই ব্যথা অনুভব করেন এবং বিশ্রাম করলে এই ব্যথা চলে যায়। কিন্তু একবার মাইওকার্ডিক্যাল ইনফ্রাকশন হলে এ ব্যথা এবং চাপ চলতে থাকে। তখন বুকে ব্যথার সঙ্গে প্রায়ই দম বন্ধ হয়ে আসতে চায়, শরীর ঘামতে থাকে, হাত পা ঠাণ্ডা হয়ে যায় এবং কখনও কখনও বুক ধড়ফড় করে।

কোন কোন রোগী অজ্ঞান পর্যন্ত হয়ে যান। ব্যথার সময় গ্লিসারিন ট্রাই নাইট্রেট (জিহ্বার নিচে দিয়ে চুষতে হয় অথবা জিহ্বার নিচে স্প্রে করতে হয়) ওষুধে ২ মিনিটে যদি ব্যথা না কমে, দম বন্ধ ভাব, দারুণ দুর্বলতা অথবা বুকে চাপ চলতে থাকে, তাহলে বুঝতে হবে পরিস্থিতি মোটামুটি গুরুতর পর্যায়ে। সুতরাং হাসপাতালে যাওয়া বাঞ্ছনীয়।

যারা অতি বৃদ্ধ, যাদের অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস অথবা যারা অধিক মদ্যপায়ী তাদের বুকে ব্যথা ছাড়াও মাইওকার্ডিক্যাল ইনফ্রাকশন হতে পারে। ওই ধরনের রোগীরা দারুন দুর্বলতা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া অথবা হৃদপিন্ড ঢিলে হয়ে যাওয়ার দরুন, হাত-পা ফুলে গিয়ে অসুবিধার দরুন ডাক্তারের কাছে আসতে পারেন।

হৃদরোগের চিকিৎসা

বুকের ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, ঘাম দিয়ে হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া ইত্যাদি উপসর্গ হলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যেতে হবে। এমআই হলে সাধারণত করোনারি ধমনীর কোন জায়গায় রক্ত জমাট বেঁধে যায়। আজকাল রোগী যদি ব্যথা শুরু হওয়ার ১ ঘণ্টার মধ্যে হার্টের ইউনিটে পৌঁছতে পারেন তাহলে ওই জমাট রক্ত তরল করে ফেলার জন্য বিশেষ ওষুধ ব্যবহার করা হয়। এমআই হবার প্রথম ঘণ্টাকে এজন্য গোল্ডেন আওয়ার বলে।

এছাড়া ব্যথা, অস্থিরতা, অক্সিজেনের অভাব ইত্যাদির জন্য বিভিন্ন ওষুধ এবং অক্সিজেন দিয়ে রোগীকে আরাম দেয়া হয়।

একই সঙ্গে রোগীর হাইপ্রেসার বা ডায়াবেটিস থাকলে তা চিকিৎসা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ  করতে হয়। অল্প কিছুদিন পূর্ণ বিশ্রাম করার পর হালকা কাজের মাধ্যমে ধীরে ধীরে রোগীকে পুনর্বাসিত করতে হয়।

ভবিষ্যতের জন্য লাইফ স্টাইল পরবর্তিত করে নিতে হয়। ধূমপান করলে করোনারি রক্তনালি চেপে যায়, রক্তচাপ বেড়ে যায়। এ জন্য ধূমপান এ রোগীর চরম শত্রু।

কোলেস্টরল এবং লিপিড নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। সাধারণত ভাত এবং শর্করা জাতীয় খাদ্য কম খেতে হয়। কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইড নিয়ন্ত্রণের জন্য ফুলক্রিম দুধ, সর, ঘি, মাখন, চর্বি, ডিমের কুসুম, মগজ, কলিজা, হাড়ের ভেতরের নরম অংশ, গরু, খাসি, শর্করা, মদ ইত্যাদি খাদ্য শক্তভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। রক্তের চর্বি এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য ওষুধও পাওয়া যায়।

সাধারণত ফল, শাক-সব্জি, মাছ, ডাল লিপিড নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে। ডায়াবেটিস ও হাইপ্রেসার রোগের ক্ষেত্রে লিপিড এবং ধূমপান নিয়ন্ত্রণ এবং শক্ত হাতে চিকিৎসা করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

অ্যাটাক থেকে ভালো হওয়ার পর চিকিৎসক কর্তৃক নির্ধারিত ব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটি করোনারি রোগীর জন্য অত্যন্ত উপকারী হতে পারে। একমাত্র চিকিৎসক রোগীর সবকিছু বিবেচনা করে কোন ধরনের ব্যায়াম তিনি গ্রহণ করতে পারবেন তা নির্ধারণ করবেন।



কমেন্ট


সাম্প্রতিক মন্তব্য


Logo

Upma tewari 9 months ago

thanks