shasthokothaxyz@gmail.com

+8801953906973

হরমোন অসামঞ্জস্যতা কি? এর ফলে সৃষ্ট সমস্যা এবং এর চিকিৎসা

হরমোন হচ্ছে আমাদের দেহের রাসায়নিক বার্তাবাহক। এই শক্তিশালী রাসায়নিক পদার্থগুলো আমাদের রক্তের মধ্যে চলাচল করে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গকে তাদের নির্দিষ্ট কাজ করার নির্দেশ দেয়। এই রাসায়নিক শরীরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রন করে। শরীরে এই গুরুত্বপূর্ণ হরমোনের পরিমান কম-বেশী হওয়াকে হরমোন ইমব্যালান্স বা হরমোন অসামঞ্জস্যতা বলে।

fgggg Md Ashiqur Rahman ভিউ: 227

Logo

পোস্ট আপডেট 2021-02-14 13:58:24   9 months ago

 জীবনের বিভিন্ন সময়ে যেমন নারীদের মাসিকের অথবা ঋতুজরার সময় কিংবা গর্ভবতী অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই আপনার শরীরে হরমোনের পরিমান কম-বেশী হতে পারে। এছাড়া কিছু শারীরিক সমস্যা এবং ঔষধের কারণেও হরমোন বাড়তে-কমতে পারে।

 

হরমোন অসামঞ্জস্যতা এর কারণে যেসব সমস্যা হতে পারেঃ

অনিয়মিত মাসিক

অধিকাংশ নারীর প্রতি ২১ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যে মাসিক হয়। আপনার যদি প্রতি মাসে একই সময়ে এটা না হয় অথবা কোন মাসে একেবারেই না হয়, তাহলে আপনার কিছু হরমোন (ইস্ট্রজেন এবং প্রজেস্টেরন) খুব বেশি অথবা খুব কম থাকতে পারে।

অনিয়মিত মাসিক স্বাস্থ্যের অন্যান্য সমস্যার কারণেও হতে পারে। তাই এটা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলাই উত্তম।

 

ঘুমের সমস্যা

আপনার ঘুম যদি ভালো না হয়, তাহলে হরমোনের অসামঞ্জস্যতা দায়ী হতে পারে। প্রজেস্টেরন নামক ডিম্বাশয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট একটা হরমোন আপনাকে ঘুমাতে সাহায্য করে। যদি প্রজেস্টেরন এর লেভেল স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকে, তাহলে ঘুম আসতে অনেক দেরি হতে পারে।

 

ইস্ট্রজেন কম থাকলে রাতে ঘাম হতে পারে, যার কারণে ভালো ঘুম হয় না।

 

দীর্ঘকালস্থায়ী ব্রণ

আপনার মাসিকের সময় কিংবা মাসিকের পূর্বে ব্রণ হতে পারে। তবে এটা যদি অল্প কিছু দিনের মধ্যে পরিষ্কার না হয়ে যায়, তাহলে আপনার হরমোনে অসামঞ্জস্যতা থাকতে পারে।

 

শরীরে এন্ড্রোজেন বেশি থাকলে তেলের গ্রন্থিগুলোর খাটুনি বেড়ে যায়। এন্ড্রোজেন এছাড়া আপনার লোমের আশেপাশের ত্বকের কোষকে প্রভাবিত করতে পারে। উভয় কারণেই আপনার লোমকুপ বন্ধ যেতে পারে এবং ব্রণ হতে পারে।

 

 

স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা

হরমোন কিভাবে আমাদের ব্রেইনকে প্রভাবিত করে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত না। তবে আমরা জানি যে শরীরে ইস্ট্রজেন এবং প্রজেস্টেরন কম থাকলে মাথা ভারি ভারি থাকে এবং কোন জিনিস মনে রাখা কঠিন হয়ে যায়।

 

কিছু কিছু বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে ইস্ট্রজেন, নিউরোট্রান্সমিটারস নামক একটা ব্রেইন কেমিকেলকে প্রভাবিত করার কারণে এটা হয়। ঋতুজরার সময় এবং ঋতুজরার পূর্বে বিশেষ করে মনোযোগ এবং স্মৃতিশক্তির সমস্যা হতে পারে। তবে হরমোন-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সমস্যার কারণেও এটা হতে পারে।


মাথাব্যাথা

বিভিন্ন কারণে মাথাব্যাথা হতে পারে। তবে কিছু কিছু নারীর ইস্ট্রোজেন কমার কারণে মাথাব্যাথা হতে পারে। একারণে মাসিকের সময় অথবা মাসিকের পুর্বে যখন ইস্ট্রোজেন কমতে থাকে, তখন অনেকের মাথাব্যাথা শুরু হয়।

 

নিয়মিত মাথাব্যাথা হলে কিংবা মাসের একই সময়ে মাথাব্যাথা হলে বুঝতে হবে হরমোনের অসামঞ্জস্যতার কারণে বোধহয় এটা হচ্ছে।

 

 

যোনীপথের নিরসতা

মাঝেমধ্যে এটা হওয়া সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। তবে প্রায় যদি আপনার যোনী শুষ্ক মনে হয়, তাহলে ইস্ট্রোজেন এর স্বল্পতা দায়ী হতে পারে। ইস্ট্রোজেন যোনীকে সিক্ত রাখতে সাহায্য করে। অসামঞ্জস্যতার কারণে যদি আপনার ইস্ট্রোজেন কমে যায়, তাহলে যোনীপথের তরল পদার্থ কমে যেতে পারে এবং নিবিড়তা আসতে পারে।

 

 

যৌন সহবাসের ইচ্ছার হ্রাস

অনেক মানুষ মনে করে টেস্টোস্টেরোন পুরুষদের একটা হরমোন। কিন্তু নারীদের শরীরও এটা তৈরি করে। যদি আপনার টেস্টোস্টেরোন এর মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কম হয়, তাহলে আপনার যৌন সহবাসের ইচ্ছা কমে যেতে পারে।

 

 

স্তনে পরিবর্তন

ইস্ট্রোজেন এর মাত্রা কমে গেলে আপনার স্তনের টিস্যুর নিবিড়তা কমে যেতে পারে। আর মাত্রা বেড়ে গেলে টিস্যু ঘন হয়ে যেতে পারে এবং এমনকি স্তনে নতুন পিন্ড (lumps) এবং সিস্ট (cysts) সৃষ্টি করতে পারে।

 

আপনার স্তনে যদি কোন পরিবর্তন লক্ষণ করেন, তাহলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন। যদিও অন্য কোন লক্ষন না দেখা দেয়, স্তনে কোন পরিবর্তনের সাথে সাথে ডাক্তারের সাথে কথা বলাই ভালো।


হরমোন অসামঞ্জস্যতার চিকিৎসা

কি কারণে অসামঞ্জস্যতা হচ্ছে, চিকিৎসা তার উপরে নির্ভর করবে। সাধারণত যেসব চিকিৎসা করা হয়ঃ

 

ইস্ট্রজেন থেরাপিঃ আপনার যদি ঋতুজরার সময় উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে ডাক্তার আপনাকে অল্প ডোজে ইস্ট্রজেন দিতে পারেন। তবে থেরাপির আগে ডাক্তারের কাছ থেকে ভালো করে এর ঝুঁকি এবং উপকার জেনে নেয়া ভালো।

 

যোনিতে ইস্ট্রজেনঃ সহবাসের সময় যদি আপনার যোনিতে ব্যাথা করে, তাহলে আপনাকে ইস্ট্রজেন ক্রিম, ট্যাবলেট অথবা রিং দেয়া হতে পারে।


এন্টি-এন্ড্রোজেন ঔষধঃ নারীদের যদি এন্ড্রোজেন বেশি থাকে, তাহলে মুখের লোম বাড়তে পারে, ব্রণ হতে পারে, এবং মাথার চুল পড়তে পারে। এন্ড্রোজেনের প্রভাব ব্লক করার জন্য ডাক্তার আপনাকে ঔষধ দিতে পারেন।

 

থাইরয়েড হরমোন থেরাপিঃ থাইরয়েডে হরমোনের পরিমাণ কম থাকলে ডাক্তার লেভোথাইরক্সিন নামক একটা কৃত্তিম থাইরয়েড দ্বারা হরমোনের অসামঞ্জস্যতা ঠিক করতে পারেন।

 

Flibanserin: যদি হরমোনের অসামঞ্জস্যতার কারণে সহবাসের ইচ্ছা কমে যায়, তাহলে ডাক্তার আপনাকে flibanserin নামক একটা ঔষধ দিতে পারেন। এটার সিরিয়াস সাইড-ইফেক্ট আছে। তাই ডাক্তারের কাছ থেকে ভালোভাবে নিশ্চিত হয়ে নিন এটা আপনার জন্য উপযোগী কিনা।

 

Eflornithine: যদি হরমোনের অসামঞ্জস্যতার কারণে আপনার মুখের লোম বাড়তে থাকে, তাহলে আপনাকে এই ক্রিমটা দেওয়া হতে পারে। এটা মুখে লাগালে লোম বাড়া কমে যায়। তবে পুরানো লোমের কোন পরিবর্তন হয় না।

 

লাইফস্টাইলে পরিবর্তনঃ হরমোনের অসামঞ্জস্যতা কমানোর জন্য আপনি লাইফস্টাইলের কিছু পরিবর্তন করতে পারেন। যোগব্যায়াম (Yoga) অনেকের হরমোনের অসামঞ্জস্যতার উপসর্গগুলো ভালো করতে সাহায্য করে। এছাড়া এটা শক্তি, নমনীয়তা, এবং ভারসাম্য বাড়ায়। নিয়মিত যোগব্যায়াম করলে আপনার ওজনও কমবে, যেটা আপনার হরমোনকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে।

 

এছাড়া ঠিকমত খাওয়া-দাওয়া করুন। হরমোনের সামঞ্জস্যতা ছাড়াও একটা ব্যালান্সড ডায়েট আপনার সার্বিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।



কমেন্ট


সাম্প্রতিক মন্তব্য