shasthokothaxyz@gmail.com

+8801953906973

রমজান মাসের সঠিক খাদ্যাভাস এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা।

,পলি বিনতে মালেক

fgggg স্বাস্থ্য কথা ভিউ: 238

Logo

পোস্ট আপডেট 2021-03-12 10:56:42   8 months ago


আর প্রায় এক মাস পরই আসছে ধর্ম প্রাণ মুসলমানদের পবিত্র মাহে রমযান। এবার আমাদের গ্রীষ্মকালে রমযান হবে-যা কিনা প্রায় ১৫-১৬ ঘন্টা আমাদের না খেয়ে থাকতে হবে। প্রচন্ড গরমে আমাদের পানি শূন্যতা বা স্বাস্থ্য খারাপ হওয়ার সম্ভবনা থাকে। আর রমযানে তা আরও বৃদ্ধি পায়। 

রোজা পালনের জন্য প্রয়োজন সঠিক খাবার নির্বাচন, শারীরিক সুস্থতা, মানসিক শক্তি এবং অদম্য ইচ্ছা ও আনুগত্য। কিছু নিয়ম, নীতি ও পরামর্শ অনুসরণ করলে সুস্থভাবেই রোজা পালন করা যায়।


প্রচুর তরল খাবার গ্রহণ -

রোজার মাসে তরল খাবার কম খাওয়া শরীরে পানিশূন্যতার কারণ। পানিশূন্যতা অল্প পরিমানে হলে তা অস্বস্তির সৃষ্টি করে, তবে যদি প্রকট আঁকার ধারণ করে তবে তা জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। অতিরিক্ত মিষ্টি কার্বোনেটেড পানীয়, যেমন, সোডা, কৃত্রিম ফলের রস বা জুস, শরীরের আর্দ্রতা কমিয়ে দেয় এমন পানীয় যেমন- চা বা কফি ইত্যাদি পরিত্যাগ করুন।
ইফতার, সেহরি এবং ইফতারের পরবর্তী সময়ে প্রচুর বিশুদ্ধ পানি খাওয়া বাঞ্ছনীয়। বিশেষজ্ঞরা অন্তত ১.৫ থেকে ২ লিটার পানি খাওয়ার কথা বলে থাকেন। সুতরাং ইফতারের আগেই আপনার পানি-পরিশোধনকারী মেশিনে যথেষ্ট পরিমাণ পানি জমিয়ে রাখুন। একবারে খুব বেশি পানি পান না করে, অল্প অল্প করে বার বার খান। নয়ত আপনি অস্বস্তি বোধ করতে পারেন। অনেকেই আছেন যারা শুধু পানি খেতে পছন্দ করেন না, তারা পানির সাথে লেবু কিংবা বিভিন্ন ফ্লেভার মিশিয়ে খেতে পারেন। আরো কিছু স্বাস্থ্যকর বিকল্প হলো জিরো-ক্যালরি ভিটামিন অথবা ফ্রুট ওয়াটার।


খাবারের ব্যাপারে সচেতনতা-

রমজান মাসে আমাদের খাদ্যদ্রব্য হতে হবে হালকা এবং পুষ্টিকর। একটি সুষম খাদ্যাভ্যাস আপনাকে সাধারণ ওজন বজায় রাখতে সাহায্য করবে। আপনি যেসব খাবার খাবেন তা যদি সঠিক হয় তবে তা আপনাকে পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা করবে। সেহরি এবং ইফতারে স্বাস্থ্যকর খাবারের তালিকায় প্রচুর ফল এবং সবজি থাকা জরুরি যেগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি রয়েছে এবং একই সাথে সহজপাচ্য।
ভাজাপোড়া খাবার না খাওয়া-
অনেকে মনে করেন ইফতারে ভাজা পোড়া না থাকলে ইফতারই হবে না। কিন্তু দিনভর অভুক্ত থাকার পর ভাজাপোড়া, তৈলাক্ত, গরম খাবার পেটে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে। পেট জ্বালাপোড়া করতে পারে।
এসব মুখরোচক খাবারের বদলে চিড়া-দই, লাল আটার রুটি, লাল চালের ভাত, নুডুলস, নরম খিচুড়ি ইত্যাদি খেতে পারেন। সঙ্গে সবজি, ফল, সালাদ, মাছ বা মাংস বা ডাল বা ডিম থাকবে।


শীতল স্থানে অবস্থান করা-

দিনের সবচেয়ে গরম সময়টিতে শীতল স্থানে থাকার চেষ্টা করুন। হতে পারে অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা বাড়ি। শারীরিক পরিশ্রমের মাত্রা যথাসম্ভব কমিয়ে আনুন। সম্ভব হলে নিয়মিত বিরতিতে বিশ্রাম নিন।


শরীর চর্চা-

আপনাদের অনেকেই হয়তো ভাবেন, রোজা রেখে ব্যায়াম করলে তা আপনাকে আরও ক্লান্ত করে ফেলবে এবং রোজা রাখতে কষ্ট হয়ে যাবে। কিন্তু ব্যায়াম বা শারীরিক কসরত রোজার উপকারিতাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে। ব্যায়াম আপনার মেটাবোলিজমকে বাড়িয়ে খাবার হজমে সাহায্য করে, রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রনে সাহায্য করে, বাড়তি মেদ ঝরাতে সাহায্য করা সহ আরও অসংখ্য উপকার করে।


পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা-

নিয়মিত হাত ধোঁয়ার অভ্যাস করুন। পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকুন। কারো সর্দি-কাশি বা হাঁচি হলে সাবধান থাকুন। কারণ এর মাধ্যমে আপনার শরীরে ভাইরাস জ্বর বা এ জাতীয় কোনো রোগের জীবাণু সংক্রমণ ঘটতে পারে। আর ধূমপানের অভ্যাস থাকলে তা ত্যাগ করুন।


পর্যাপ্ত ঘুম-

পর্যাপ্ত ঘুমের দিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। কেননা সাত থেকে আট ঘণ্টার কম ঘুম আপনার রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতাকে কমিয়ে দেবে।


ধীরে ধীরে খাবার খান-

সারাদিন খাবার না খাওয়ায় রোজার মাসে শরীরের পুষ্টির চাহিদা থাকে আলাদা। তাই ইফতারে একসঙ্গে অনেক কিছু খাবেন না। ধীরে ধীরে খান। কিছু খেজুর এবং পানি দিয়ে ইফতার শুরু করুন এবং ধীরে ধীরে অন্য খাবারগুলো খান।



কমেন্ট


সাম্প্রতিক মন্তব্য